কোথা থেকে এহরাম বাধবেন।এহরাম বাধার তরীকা।এহরাম কীভাবে বাঁধবেন।
![]() |
| কোথা থেকে ইহরাম বাঁধবেন। |
হজ্জ বা উমরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে মীকাত অর্থাৎ , শরী'আত কর্তৃক এহরাম বাধার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করার পূর্বেই এহরাম বেধে নেয়া জরুরী ।
বাংলাদেশ , ভারত ও পাকিস্তান প্রভৃতি পূর্বাঞ্চলীয় লোকদের জন্য এই নির্ধারিত স্থানটি হল ইয়ালামলাম ( মক্কা থেকে দক্ষিণপূর্বে অবস্থিত একটি পাহাড়ের নাম ) । সামুদ্রিক জাহাজযোগে হজ্জ যাত্রীগণ এ স্থান বরাবর অতিক্রম করার পূর্বে অবশ্যই এহ্রাম বেধে নিবেন । প্লেন এ স্থান বরাবর রেখা কখন অতিক্রম করে তা টের পাওয়া কঠিন ; তাই প্লেন যোগে হজ্জ বা উমরার উদ্দেশ্যে মক্কা গমনকারীর জন্য প্লেনে আরোহণের পূর্বেই এহ্হ্রাম বেধে নেয়া উচিত । বিমানবন্দরে যেয়ে বা হাজী ক্যাম্প থেকে বা বাসা থেকে রওয়ানা হওয়ার পূর্বে বাসায় বা মসজিদে যে কোন স্থানে এহরাম বাধা যায় ।
* যারা মদীনা শরীফ আগে যাওয়ার ইচ্ছা করবেন তারা বিনা এহরামেই রওয়ানা হবেন । মদীনা যিয়ারতের পর যখন মক্কা শরীফ - এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন , তখন মদীনা শরীফ থেকে মক্কা শরীফ গমনকরীদের মীকাত যেহেতু যুলহুলাইফা তাই যুলহুলাইফা নামক স্থান ( বর্তমানে “ বীরে আলী ” নামে পরিচিত ) থেকে বা মদীনায় থেকেই এহ্রাম বেধে মক্কা শরীফ রওয়ানা হবেন ।
* যারা মক্কা শরীফে থেকে নফল উমরা করতে চান এহ্রাম বাধার জন্যে তাদেরকে হারামের সীমানার বাইরে যেয়ে এহরাম বেধে আসতে হবে । এর জন্য সবচেয়ে উত্তম স্থান হল তানয়ীম । বর্তমানে সেখানে মসজিদে আয়েশা নামক একটি মসজিদ আছে । তাই মসজিদে আয়েশায় গিয়ে এহ্হ্রাম বেধে এসে নফল উমরা করবেন । জে'রানা নামক স্থান থেকেও এহ্রাম বেধে আসা যায় ।
এহরাম বাধার তরীকা। এহরাম কীভাবে বাঁধবেন।
* এহরাম বাধার ইরাদা হলে প্রথমে ক্ষৌরকার্য করে নিন - নখ কাটুন , বগল ও নাভির নীচের পশম পরিষ্কার করুন । এগুলো মোস্তাহাব । মাথা মুণ্ডানোর অভ্যাস থাকলে মাথা মুণ্ডিয়ে নিন অন্যথায় চুল আঁচড়িয়ে নিন । স্ত্রী সম্ভোগও মোস্তাহাব ।
* তারপর এহরামের নিয়তে গোসল করুন , না পারলে উযূ করে নিন । এটা সুন্নাত । ভালভাবে শরীরের ময়লা দূর করবেন ।
* তারপর সেলাই বিহীন ( ফাড়া ) লুঙ্গি পরিধান করুন অর্থাৎ , একটা চাদর পরিধান করুন এবং একটা চাদর গায়ে জড়িয়ে নিন । এখন ডান বগলের নীচে দিয়ে পরবেন না । এহ্রামের কাপড় সাদা রংয়ের হলে উত্তম । পুরুষের এবার তার শরীরের পরিমাণে খেলা নাচে জন্য এহরামের অবস্থায় শরীরের পরিমাপে সেলাই করা হয়েছে - এমন কাপড় পরিধান করা নিষিদ্ধ । মহিলাগণ যে কোন পোশাক পরিধান করতে পারেন । এহ্হ্রামের কাপড় নতুন বা পরিষ্কার হওয়া উত্তম ।
* তারপর সুগন্ধি লাগিয়ে নিন । এটা সুন্নাত ।
* তারপর এহরামের নিয়তে দুই রাকআত নফল নামায পড়ে নিন । এটা সুন্নাত । এই দুই রাকআতের মধ্যে প্রথম রাকআতে সূরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরা এখলাস পড়া উত্তম । এই নামায মাথায় টুপি সহকারে ( বা মাথা ঢেকে ) ই পড়তে হয় । নামাযের নিষিদ্ধ বা মাকরূহ ওয়াক্তে এহ্হ্রাম বাধতে হলে এহরামের নামায না পড়েই এহরাম বাধতে হয় ।
* নামাযের পর টুপি খুলে রেখে কেবলামুখী থেকেই এহরামের নিয়ত করতে হবে । বসে বসেই নিয়ত করা উত্তম এবং নিয়ত মুখেও উচ্চারণ করা
* শুধু উমরার এহরাম হলে এভাবে নিয়ত করুন, বাংলায় ঃ হে আল্লাহ , আমি উমরা করতে চাই , তুমি আমার জন্য তা সহজ করে দাও এবং কবূল কর ।
* শুধু হজ্জের এহরাম হলে এভাবে নিয়ত করুন, বাংলায় : হে আল্লাহ , আমি হজ্জ করতে চাই , তুমি আমার জন্য তা সহজ করে দাও এবং আমার থেকে তা কবূল কর ।
* উমরা ও হজ্জ উভয়টার এহরাম হলে এভাবে নিয়ত করুন, বাংলায় ঃ হে আল্লাহ , আমি হজ্জ ও উমরা উভয়টার নিয়ত করছি , তুমি সহজ করে দাও এবং কবূল কর ।
* তারপর তালবিয়া পড়ুন । তালবিয়া পড়া সুন্নাত , তবে নিয়তের সাথে একবার তালবিয়া বা যে কোন যিকির থাকা শর্ত । তালবিয়া জোর আওয়াজে পড়া সুন্নাত এবং তিনবার পড়া সুন্নাত । মহিলাদের জন্য তালবিয়া জোর আওয়াজে পড়া নিষিদ্ধ , তারা এতটুকু শব্দে পড়বে যে নিজের কানে শোনা যায় । তালবিয়া আরবীতেই পড়া উত্তম ।
তালবিয়া এই :
لبيك اللهم لبيك لبيك لا شريك لك لبيك إن الحمد والنعمة لك والملك لا شريك لك - ( লব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ,
লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক , ইন্নাল হাম্দা ওয়ান্নি'মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক , লা শারীকা লাক ) অর্থাৎ , আমি হাজির হে আল্লাহ , আমি হাজির । আমি হাজির , কোন শরীক নেই তোমার , আমি হাজির । নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নেয়ামত তোমারই , আর সকল সাম্রাজ্যও তোমার কোন শরীক নেই তোমার ।
বিঃ দ্রঃ নিয়ত ও তালবিয়া পাঠ করার পর এহরাম বাধা সম্পন্ন হয়ে গেল ।
* তারপর দুরূদ শরীফ পড়ুন এবং যা ইচ্ছা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন , তবে এই দুআ করা উত্তম اللهم إني أسألك رضاك والجنة وأعوذ بك من غضبك والنّار - অর্থাৎ , হে আল্লাহ ! আমি তোমার নিকট চাই তোমার সন্তুষ্টি এবং জান্নাত । আর তোমার অসন্তোষ ও জাহান্নাম থেকে তোমার কাছে পানাহ চাই ।
* মহিলাগণ হায়েয নেফাসের অবস্থায় থাকলে নামায না পড়ে শুধু নিয়ত করে এবং তালবিয়া পড়ে নিলেই এহরাম শুরু হয়ে যাবে ।
বিশেষ আলোচনা। সালাতুত্ তাসবীহ।
সালাতুত্ তাসবীহ একই সালামে চার রাকা'আত নামায পড়া মুস্তাহাব । দু'রাকা'আতও পড়া যায় । হাদীসে এ নামাযের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে । এ নামাযকে সালাতুত্ তাসবীহ্ এ জন্য নামকরণ করা হয়েছে যে , এ নামাযের প্রত্যেক রাকা'আতে নিম্নের তাসবীহ্ পঁচাত্তরবার পড়তে হয় : سبحان الله والحمد لله ولا اله الا الله والله أكبر . সমস্ত পবিত্রতা ও প্রশংসা আল্লাহর জন্য আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই । আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ । সালাতুত্ তাসবীহ্ পড়ার পদ্ধতি হলো , চার রাকা'আত সালাতুত তাসবীহ্র নিয়্যাত করে হাত বাঁধতে হয় । অতঃপর সানা পড়তে হয় ।
তারপর পনেরবার উপরোক্ত তাসবীহ্ পড়তে হয় । এরপর আউযুবিল্লাহ্ বিসমিল্লাহ্ ও ফাতিহা পড়ে কুরআনের কিছু অংশ পড়তে হয় । এরপর দশবার তাসবীহ্ পড়তে হয় । রুকূ'তে গিয়ে রুকু'র তাসবীহর পর দশবার এ তাসবীহ , রুকু ' থেকে উঠে কাওমার সময় দশবার এ তাসবীহ্ , সিজদায় এরপর এ তাসবীহ্ দশবার , সিজ্দা থেকে উঠে বসে দশবার পড়তে হয় ।
দ্বিতীয় সিজ্দায়ও ঐভাবে দশবার পড়তে হয় । 1 ** " দ্বিতীয় রাকা'আতে ফাতিহার পূর্বে পনেরবার , কিরাআতের পর দশবার , রুকূ'তে দশবার , রুকূ ' থেকে উঠে দশবার দুই সিজ্দা দশ + দশবার এবং দুই সিজদার মাঝখানে দশবার পড়তে হয় । এভাবেই তৃতীয় ও চতুর্থ রাকা'আতে আদায় করতে হয় । প্রত্যেক রাকা'আতে পঁচাত্তরবার করে চার রাকা'আতে তিনশ'বার এ তাসবীহ্ পড়তে হয় । তাসবীহ্ গণনার সময় আঙ্গুলের আঁকে গোনা যাবে না ।
কোন স্থানে ভাসবীহ্ ভুলে গেলে অন্য স্থানে পূরণ করতে হয় । নিয়্যাত : نويت أن أصلى الله تعالى ركعتى صلواة التسبيح سنة رسول الله تعالى متوجها إلى جهة الكعبة الشريفة الله أكبر সালাত বা নামায ২৭৭ আল্লাহর ওয়াস্তে কিবলামুখী হয়ে চার রাকা'আত সালাতুত্ তাসবীহ্ সুন্নাত নামায আদায় করছি , আল্লাহু আকবার ।
মুসাফিরের নামায কর নামাযের বিবরণ : ' কসর ' ( ii ) আরবী শব্দ । এর আভিধানিক অর্থ কম করা , সংক্ষেপ করা । ইসলামী শরী'আতে কোন ব্যক্তি ৪৮ মাইল দূরে বা ততোধিক দূরত্বের সফরে বের হলে এর কোথাও ১৫ দিন বা ততোধিক সময় অবস্থানের নিয়্যাত না করলে সে মুসাফির বলে গণ্য হবে । মুসাফিরকে চার রাকা'আত বিশিষ্ট ফরয নামায — যোহর , আসর এবং এশা সংক্ষেপ করে বা কমিয়ে দু ' রাকা'আত আদায় করতে হবে । এটাই হলো কর বা সংক্ষেপকরণ । কেউ তিন মঞ্জিল , অর্থাৎ ৪৮ মাইলের কম দূরত্বে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ঘর থেকে বের হলে তাকে পূর্ণ চার রাকা'আত নামাযই আদায় করতে হবে ।
কোন স্থানে পায়ে হেঁটে বা উটে চড়ে যেতে তিন দিন লাগে আর উড়োজাহাজ , ষ্টীমার , লঞ্চ , ট্রেন বা অন্য কোন দ্রুতযানে অপেক্ষাকৃত কম সময় লাগে , তখনও সে মুসাফির হিসাবে গণ্য হবে এবং নামাযে কসরই করতে হবে । কোন মুসাফির যদি পনের দিনের কম সময়ের নিয়্যাত করে ভ্রমণে বের হয় , কিন্তু নিয়্যাত ছাড়া পনের দিনের বেশি অবস্থান করে , এমতাবস্থায়ও তাকে কসরই করতে হবে । যারা নিজ বাড়িতে অবস্থান করে অথবা দূরে কোথাও গিয়ে পনের দিনের বেশি সময় থাকার নিয়্যাত
