হায়েয চলাকালীন ও হায়েয শেষে নামায রোযার হুকুম। হায়েয সংক্রান্ত আলোচনা।

হায়েয চলাকালীন ও হায়েয শেষে নামায রোযার হুকুম।হায়েয সংক্রান্ত আলোচনা। 

হায়েয সংক্রান্ত আলোচনা। 


 হায়েযের সময় গুলোতে নামায পড়া , রোযা রাখা নিষেধ । তবে নামায ও রোযার মধ্যে একটু পার্থক্য আছে । নামায পরিপূর্ণভাবে মাফ হয়ে যায় , আর কখনো কাযা করতে হয় না । কিন্তু রোযা সাময়িক মাফ হয় । হায়েয শেষে আবার রোযার কাযা করতে হয় ।

* ফরয নামায পড়াকালে যদি হায়েয দেখা দেয় , তাহলে সেই নামায ফাসেদ হয়ে যাবে , সেই চলতি নামাযও মাফ হয়ে যাবে । হায়েঢ় শেষে সেটার কাযা পড়তে হবে না । 

* নফল বা সুন্নাত নামায পড়াকালে রক্ত দেখা দিলে সে নামায ফাসেদ হয়ে যাবে এবং সেটা পরে কাযা করতে হবে ।  

* ওয়াক্তের নামায এখনো পড়েনি , কিন্তু নামায পড়ার মত সময় এখনো আছে , অর্থাৎ ওয়াক্তের শেষ অবস্থা , এমতাবস্থায় যদি হায়েয শুরু হয় , তাহলে সেই ওয়াক্তের নামাযও মাফ হয়ে যাবে , কাযা পড়তে হবে না ।

* রোযা শুরু করার পর যদি হায়েয দেখা দেয় , তাহলে সেটারও পরে কাযা করতে হবে , চাই সেটা ফরয রোযা হোক বা নফল রোযা ।  

* যদি কারও ১০ দিনের কম সময় স্রাব হয় এবং এমন সময় গিয়ে রক্ত বন্ধ হয় , যদি খুব তাড়াহুড়া করে গোসল করে নেয় , তাহলে পবিত্রতার পর এতটুকু সময় থাকবে , যার মধ্যে একবার ' আল্লাহু আকবার ' বলে নামাযের নিয়ত বাধা যায় , তাহলেও সেই ওয়াক্তের নামায ওয়াজিব হবে । এমতাবস্থায় নামায শুরু করার পর যদি ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায় , 

তবুও নামায পুরা করে নিবে । তবে ফজরের ওয়াক্ত হলে যদি নামায শুরু করার পর সূর্য উদিত করে যায় , তাহলে সে নামায কাযা করতে হবে । আর যদি সময় তার চেয়ে কম , অর্থাৎ , এমন সময় গিয়ে রক্ত বন্ধ হয় , যে খুব তাড়াহুড়া করে গোসল করে নিয়ে পবিত্রতা অর্জনের পর এতটুকু সময় থাকবে না , যার মধ্যে ‘ আল্লাহু আকবার ' বলে নামাযের নিয়ত বাধা যায় , তাহলে সেই ওয়াক্ত নামায মাফ , তার কাযা করতে হবে না ।

* যদি পরিপূর্ণ ১০ দিন ১০ রাত হায়েয হয় এবং এমন সময় এ হয় , যার মধ্যে শুধু একবার ' আল্লাহু আকবার ' বলার সময় আছে , তার নেই নামাযের সময় শেষ , গোসলেরও সময় নেই । তবুও ঐ ওয়াক্তের নামাজ ওয়াজিব হবে।পরে কাযা করতে হবে। 

* যদি রমযান মাসে দিনের বেলায় হায়েয বন্ধ হয় , তাহলে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোযাদারের মতই থাকতে হবে , পানাহার করতে পারবে না । অবশ্য পরে এ দিনটির রোযারও কাযা করতে হবে । 

 * যদি কেউ পূর্ণ ১০ দিন ১০ রাত পর রাতের শেষভাগে গিয়ে পবিত্র হয় , যখন পাক হয়েছে তখন রাতের এতটুকু সময়ও হাতে নেই , যার মধ্যে একবার আল্লাহু আকবার বলতে পারে । তবুও পরের দিনের রোযা ওয়াজিব । আর যদি ১০ দিনের কমেই হায়েয বন্ধ হয় এবং এতটুকু রাত অবশিষ্ট থাকে , যার মধ্যে তড়িঘড়ি করে গোসল করে নিতে পারে তবে একবার ' আল্লাহু আকবার'ও বলা যায় না , তবুও পরের দিনের রোযা ওয়াজিব হবে ।


 এমতাবস্থায় গোসল না করে থাকলে গোসল ছাড়াই রোযার নিয়ত করে নিবে । সকাল বেলায় গোসল করে নিবে । আর যদি সময় তার চেয়েও কম থাকে , অর্থাৎ , গোসল করা পরিমাণ সময়ও না থাকে , তাহলে রোযা জায়েয হবে না । তাই সে রোযা রাখবে না , তবে সারাদিন তাকে রোযাদারের মতই থাকতে হবে । পরে কাযা করতে হবে । 

 * ১/২ দিন হায়েয হওয়ার পর রক্ত বন্ধ হয়ে গেলে গোসল ওয়াজিব হয় না । উযূ করে নামায পড়তে থাকবে । তবে এখনই সহবাস করা দোরস্ত নয় । যদি ১৫ দিনের মধ্যে আবার স্রাব শুরু হয় , তাহলে প্রমাণিত হবে সেটা হায়েযের সময় ছিল । এমতাবস্থায় হিসাব করে যত দিন হায়েযের সেটাকে হায়েয মনে করবে । এবং এখন গোসল করে নামায পড়তে শুরু করবে । আর যদি পূর্ণ ১৫ দিন রক্ত দেখা না যায় , তাহলে মনে করতে হবে সেটা ইস্তেহাযার রক্ত ছিল । সুতরাং সেই সময়ে বাদ পড়া নামাযগুলোর কাযা পড়তে হবে । 

* যদি কোন মেয়েলোকের এক হায়েয শেষ হওয়ার পর ১৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আমার রক্ত দেখা দেয় এবং সে এটাকে হায়েয মনে করে নামায ছেড়ে দিতে থাকে আর ৩ দিন ৩ রাত পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই সে রক্ত বন্ধ হয়ে যায় এবং তারপর আবার ১৫/২০ দিন কোন রক্ত দেখা না যায় , তাহলে হায়েয মনে করে যে নামাযগুলো ছেড়ে দিয়েছিল তার কাযা করতে হবে । 


বিশেষ আলোচনা। হাদীসের আলোকে খতমে নুবৃওয়াত।

 রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) ' সর্বশেষ নবী ' এ কথাটি হাদীস দ্বারাও প্রমাণিত । মুহাদ্দিসগণের মতে খতমে নুবৃওয়াত সম্পর্কিত হাদীসস্বমূহ মুতাওয়াতিরের পর্যায়ভুক্ত । নিম্নে কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করা হল : ﷺ : عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله ﷺ : قال ان مثلي ومثل الأنبياء من قبلي كمثل رجل بنى بيتا فأحسنه و أجمله إلا موضع لبنة فجعل الناس يطوفون به ويعجبون له ويقولون هلا وضعت لهذه اللبنة قال فأنا اللبنة وأنا ختم النبيين ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান ৬৫ হযরত আবূ হুরায়রা ( রা ) হতে বর্ণিত , রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) বলেন : পূর্ববর্তী নবীগণের সাথে আমার দৃষ্টান্ত এরূপ , যেমন এক ব্যক্তি একটি ঘর তৈরি করে এবং সে ঐ ঘরটি খুব সুন্দর ও মনোরম করে তৈরি করেছে । 


কিন্তু একটি ইটের জায়গা খালি রেখে দিয়েছে । লোকজন এর চতুর্দিক ঘুরে এর সৌন্দর্য অবলোকন করছে এবং আশ্চার্যাতি হয়ে বলছে , এ একটি ইট কেন সংযোজন করা হল না ? ( তাহলে তো ঘরের নির্মাণ কাজ পুরো হয়ে যেত ) । রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) বলেন , আমিই সেই ইট । আর আমিই খাতামুন্ নাবিয়্যীন । 

অর্থাৎ নুবৃওয়াতের ইমারত আমার দ্বারাই পূর্ণতা লাভ করেছে । ২৬ অপর এক হাদীসে বর্ণিত আছে : عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبی ﷺﷺ : قال كانت بنی اسرائیل تسوسهم الأنبياء كلما هلك نبي خلقه نبي وانه لا نبي بعدی হযরত আবূ হুরায়রা ( রা ) হতে বর্ণিত , নবী কারীম ( সা ) বলেন , বনী ইসরাঈলে আম্বিয়ায়ে কিরামই নেতৃত্ব দিতেন । যখনই কোন নবী ইতিকাল করতেন তখনই পরবর্তী নবী তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতেন । কিন্তু আমার পর আর কোন নবী আসবেন না । অন্য এক হাদীসে আছে : سی انا خاتم النبيين لا ت আমিই সর্বশেষ নবী । আমার পর আর কোন নবী আসবেন না । 


২৮ উক্ত হাদীসে ' ( নবী ) শব্দটি ' এম - এর পর পতিত হয়েছে । আর এ কথা আরবী ব্যাকরণবিদদের নিকট স্বীকৃত যে , " এ - এর পর ' Jhapi তথা ব্যাপক অর্থ প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে । এ হিসাবে এ বাক্যের অর্থ হবে আমার পর কিয়ামত পর্যন্ত কোন নতুন নবীই এ পৃথিবীতে আসবেন না ' । ‘




 মুনতাখাবুল কান্য ' গ্রন্থে বর্ণিত এক হাদীসে আছে : عن أبي أمامة رضي الله عنه قال قال رسول الله ﷺ : في خطبته يوم حجة الوداع أيها الناس لا نبي بعدي ولا أمة بعدكم فاعبدوا ربكم وصلوا خمسكم وصوموا شهركم وأتوا زكواة أموالكم طيبة بها انفسكم اطيعوا ولاة أموركم تدخلوا جنة ربكم . হযরত আবূ হুরায়রা ( রা ) হতে বর্ণিত , তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ্ ( সা ) বিদায় হজ্জের ভাষণে বলেছেন , হে লোক সকল ! আমার পর আর কোন নবী আগমন করবেন না এবং তোমাদের পর আর কোন নতুন উম্মাত হবে না । অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত করবে , পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করবে , রমযান মাসের রোযা রাখবে , সন্তুষ্টচিত্তে নিজেদের মালের যাকাত আদায় করবে এবং তোমাদের নেতাদের ( যদি শরী'আত বিরোধী না হয় ) আনুগত্য করবে । তাহলে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের জান্নাতে দাখিল হতে পারবে ।


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post